কিডনি রোগের প্রতিকার করতে জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

কিডনি রোগের প্রতিকার করতে জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

মানুষের শরীরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। এই অঙ্গটি যেমন একদিকে শরীরের বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে অন্য দিকে শরীরের পানি সাম্যতা রক্ষা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনি প্রতি ৫ মিনিটে আমাদের শরীরের পুরো রক্ত একবার ছাঁকে। এ কারণে কিডনিকে প্রাকৃতিক ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয়। অন্যান্য অঙ্গের মতো এই অঙ্গটিও বিকল হয় কিছু অসতর্কতার কারণে। যেমন রক্তে ফ্যাট/চর্বির পরিমান বেড়ে গেলে, বিষাক্ত পদার্থ রক্তে প্রবেশ করলে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এবং এর চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুলও। তাই পূর্বে থেকে কিছু  সতর্কতা অবলম্বন করলে কিডনি রোগের প্রতিকার করতে পারবেন আপনিও।

কিডনি রোগের প্রতিকার করতে জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

আসুন জেনে নিই কিডনি ভালো রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস ঃ

১. নিয়মিত ব্যয়াম করা:

নিয়মিত ব্যয়াম করা যেমন কিডনি সুস্থ রাখে তেমনি অন্যান্য রোগ থেকেও শরীরকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত ব্যয়ামের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল বেড়ে যায় যা কিডনি সুস্থ রাখে এবং পাশাপাশি শরীর ও সতেজ থাকে।

২. পানি পান করা:

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করলে রক্তে পানির পরিমাণ ঠিক থাকে যার ফলে কিডনির কার্যকারিতা ঠিক থাকে। একজন স্বাভাবিক মানুষের গড়ে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ। কিডনি রোগের প্রতিকার করতে ডাক্তার সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে পরামর্শ দেন।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা:

ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে। ফ্যাট/চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহনের ফলে শরীরের ওজন স্বাভাবিক এর চেয়ে বেড়ে যায়। ওজন বেড়ে গেলে রক্তে চর্বির পরিমাাণ বেড়ে যায়। যা রক্ত চলাচলে বাধা প্রদান করে এবং কিডনি বিকল ও প্রভাবিত করে। এর ফলে খুব দ্রুত শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা ধরনের জটিল রোগ।

৪. ধূমপান বর্জন করা:

সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হলে ধূমপান ত্যাগের কোন বিকল্প নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, একটিমাত্র সিগারেটের শলাকায় ২০ হাজার এর ও বেশি বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে। ধূমপান করার ফলে তা ফুসফুস এর মাধ্যমে রক্তে পৌছায়। এই বিষাক্ত পদার্থসমূহ নিরবে কিডনি বিকল করতে থাকে। তাই যথাসম্ভব ধূমপান বর্জন করুন।

৫. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা:

ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অসতর্কতা অবলম্বনের কারনে কিডনি বিকল হতে পারে। দেখা যায়, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেক ই কিডনি সমস্যায় পড়েন। তাই রক্তে সুগার এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত রক্তের সুগার পরীক্ষা করাতে হবে। আপনি যতি নিজের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে কিডনি রোগের প্রতিকার করা আপনার জন্য খুবই কষ্টকর।

৬. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা:

কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ হলো রক্তচাপ। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ শুধু হার্ট ফেইলিউর বা ব্রেইন স্ট্রোক এর মতো কঠিন রোগ এর ঝুকি বাড়ায় তা নয়, এটি কিডনির কার্যক্ষমতা ও নষ্ট করে ফেলে। যথাসম্ভব রক্তচাপ ১৪০/৮০ বা এর কম রাখার চেষ্টা করুন।

৭. কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করানো:

কিছু কিছু জিনিস কিডনি রোগকে প্রভাবিত করে। যেমন: ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত হওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, পরিবারের অন্য কারো কিডনি রোগে আক্রান্ত , শরীরের ওজন/স্থুলতা বৃদ্বি পাওয়া। এই সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এই সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাতে হবে। কিডনি রোগের প্রতিকার এর চেয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে ভালো। তাই নিয়মিত কিডনির কার্যকরিতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

৮. এন্টিবায়োটিক, ব্যথানাশকসহ ওষুধ গ্রহনে সতর্কতা অবলম্বন করা:

আমাদের ভেতর  এমন অনেক ব্যক্তিই রয়েছেন যারা প্রয়োজনে/অপ্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন করে থাকেন। জেনে রাখা ভালো কম/বেশি ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। ব্যথানাশক বা এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধসমূহ অসতর্কতামূলশ/অপ্রয়োজনে ব্যবহার এর ফলে আপনি নীরবে নিজের কিডনির ধ্বংস করে দিচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন। নিয়মিত প্যারাসিটামল কিংবা এ জাতীয় ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আশা করছি আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। সুস্থ্য জীবন যাপনের জন্য চাই সুস্থ্য শরীর। তাই সুস্থ্য রাখতে হবে কিডনীকেও। উপরের টিপস গুলো মেনে চলুন। আশা করছি আপনিও পারবেন সুস্থ্য জীবন যাপন করতে।

Comments

comments

Share This Post

One Response to "কিডনি রোগের প্রতিকার করতে জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস"

Post Comment