প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে মেনে চলুন এই টিপস গুলো

চুল হলো সৌন্দর্য্যের প্রতীক। আর তা যদি হয় ঘন চুল তাহলে তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। বিশেষ করে নারী জাতির সৌন্দর্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো ঘন ও লম্বা চুল, যা যে কোন নারীকেই আবেদনময়ী করে তোলে। তাই নিজেকে অন্য সবার মাঝে আকর্ষনীয় করে তুলতে হলে চুলের যত্ন নিতে হবে নিয়মিত।

আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন, ধূলো-ময়লা, চুলে বিভিন্ন ক্যামিকেল জাতীয় কসমেটিক্সের ব্যবহার, অতিরিক্ত হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার, কিছু অসাবধানতা ও অযত্নতা নষ্ট করে এই চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। চুল হয় ঘন থেকে হালকা, ফলে চুল হয়ে ওঠে শুষ্ক ও রুক্ষ। হারিয়ে যায় চুলের মসৃণতা। চুল ঘন করার মূল কৌশলগুলো কিন্তু আপনারই হাতে। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিন এবং হয়ে উঠুন নিজেই নিজের চুলের কনসালটেন্ট।

চুলের যত্ন নেবার ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায়:

চুলের যত্ন নিতে এবং চুলকে ঘন ও লম্বা করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো প্রাকৃতিকভাবে চুল ঘন করার উপায়।

  • চুলে তেলের ব্যবহারঃ

আপনি যাই ব্যবহার করুন না কেন; চুল ঘন এবং কালো করার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং উপকারী হচ্ছে তেল। চুলের ঘনত্ব দ্রুত বৃদ্ধির জন্য তেলের কোনো বিকল্প নেই। তেল চুলকে সুন্দর ও ঝলমলে তো করবেই, এর সাথে দূর করবে শরীরের ক্লান্তি এবং মনে নিয়ে আসবে প্রশান্তি। নিয়মিত তেলে চুল ব্যবহার করবে চুল হবে ঘন কালো সেই সাথে চুলকে পরিষ্কারও রাখে। তাছাড়া চুলে তেল ব্যবহার করলে তা সুঘ্রাণের ‍সৃষ্টি করে যা পছন্দের মানুষকে কাছে টানতে খুবই ভালো ভূমিকা রাখে।

আরো পড়তে পারেন: শারীরিক গঠন অনুযায়ী পোশাক নির্বাচনে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হয়

নারিকেল তেল: আদিকাল থেকেই চুলের যত্নে নারিকেল তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। নিষ্প্রাণ চুলে সজীবতা নিয়ে আনতে এর জুড়ি নেই। নারিকেল তেল ব্যবহারের ফলে চুলের রুক্ষতা ও আগা ফেঁটে যাওয়া রোধ হয়। নারিকেল তেল ছাড়াও অ্যামন্ড অয়েল (বাদাম তেল), অলিভ অয়েল (জলপাই তেল) এবং ক্যাস্টর অয়েল (রেড়ির তেল) চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। অলিভ অয়েলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড, যা চুলের জট ছাড়িয়ে চুলকে করে তোলে মসৃণ ও উজ্জ্বল।চুলের সৌন্দর্য

পদ্ধতি: একটি পাত্রে ‍সমপরিমান অ্যামন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল ও ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তেল একটু গরম করে নিন। এরপর এই হালকা গরম তেল নিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন তেল যেন চুলের গোড়ায় পৌঁছায়। সবচেয়ে ভালো হয় সারারাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করে ধুঁয়ে ফেলা। অনেকে রাত্রে তেল দেয়া পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে গোসল করার এক ঘন্টা পূর্বে লাগিয়ে নিতে পারেন। এটি সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করুন। দেখবেন, অতি দ্রুতই চুলের পাতলা ভাব কমে আসবে। চুল হয়ে উঠবে ঘন ও কালো।

সরিষার তেলঃ সরিষার তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে β-ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক। চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে এর রয়েছে চমকপ্রদ কার্যকারিতা। যা ‍চুলের গোড়া মজবুত করে অনেকাংশে চুল পড়া রোধ করবে। সরিষার তেলের পাশাপাশি মেহেদী পাতার ব্যবহার নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এতে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। চুলের যত্ন নিতে আগের দিনের মহিলারা সরিষার তেল খুব ব্যবহার করতেন। এখনও গ্রামের মানুষ চুলে সরিষার তেল ব্যবহার করে।

পদ্ধতি: ২০০ গ্রাম সরিষার তেল গরম করে এতে ১ কাপ পরিমান মেহেদী পাতা দিয়ে সিদ্ধ করুন। মেহেদী পাতা কালো হয়ে আসলে তা ছেঁকে একটি পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এটি সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করুন। ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন যেন তেল পুরো চুলে ভালোভাবে লাগে। রাতে চুলে লাগিয়ে সকালে শ্যাম্পু করে ধুঁয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ডিমের হেয়ার মাস্ক: ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক প্রোটিন। যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং চুল পড়া রোধ করে চুলকে ঘন করে তোলে। এছাড়াও এতে রয়েছে জিংক, আয়োডিন, সালফার, সেলেনিয়াম ও আয়রন; যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে চুলের বৃদ্ধি ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুলের যত্ন নিতে ডিমের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি ডিমকে দুইভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

পদ্ধতি – ১

একটি ডিমের সাদা অংশটুকু আলাদা করে নিন। এগুলো একটি পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে ভালোভাবে থেতিয়ে নিন। তারপর হাত বা ব্রাশের সাহায্যে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সুন্দরভাবে লাগিয়ে নিন। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, ডিম ব্যবহারের ফলে চুল গুলো জট বেঁধে যায়। এক্ষেত্রে আপনি একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে চুল আঁচড়ে নিন। এরপর চুলে ঝুটি অথবা শাওয়ার ক্যাপ পড়ে নিতে পারেন। ২০ মিনিট বা আধা-ঘন্টা রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুঁয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একবার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

পদ্ধতি – ২

একটি পরিষ্কার পাত্রে ডিমের সাদা অংশটুকু নিন। ১ চা চামচ পরিমান অলিভ অয়েল এবং ১ চা চামচ পরিমান মধু নিন। এক্ষেত্রে আপনার চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্য অনুযায়ী এগুলোর পরিমান বাড়াতে পারেন। এরপর ডিমের সাদা অংশের সাথে এই দুইটি উপকরণ খুব ভালোভাবে মেশান। ভালোভাবে থেতিয়ে নিন; একটি পেস্টের আকার ধারণ করবে। এরপর এই দ্রবণ মাথায় আলতোভাবে লাগান। অন্তত ২০ মিনিট রেখে তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। এক্ষেত্রে কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার চুল ঘন হওয়ার সাথে আসবে বাউন্সি ভাবও।

মেহেদী পাতার হেয়ার মাস্ক: প্রাচীনকাল থেকেই চুলের বৃদ্ধির জন্য মেহেদী পাতা ব্যবহার হয়ে ‍আসছে। মেহেদী পাতায় রয়েছে চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব পুষ্টি উপাদান। যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি যোগায় ও চুলের বৃদ্ধিসাধন করে। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে। নতুন চুল গজাতে মেহেদী পাতার তুলনা নেই। নিয়মিত মেহেদী পাতার ব্যবহারে চুল হয় ঘন, কালো ও ঝলমলে।

পদ্ধতি: মেহেদী পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে নিন। ১ কাপ পরিমান শুকনো গুড়ো মেহেদীর সাথে অর্ধেক পরিমান টকদই নিয়ে ভালোভাবে মিশ্রিত করে নিন। ভালোভাবে মিশ্রিত হওয়ার পর এটি নিয়ে পুরো চুলে ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। মিশ্রণটি শুকানো পর্যন্ত রেখে দিন। এরপর শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন।

চুলের যত্ন নিতে উপরে যে পদ্ধতিগুলোর কথা বলা হয়েছে তার সবগুলোই প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া পরিবেশে করা যায়। বর্তমানে বাজারে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অনেক বেনামি কোম্পানী চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কথা বলে মানহীন শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, তেল এবং আরো অনেক পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু বাস্তবে এই ধরনের পণ্য ব্যবহার করে চুলের যত্ন নেয়া তো সম্ভবই নয় বরং ‍চুলের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করে। এমনকি চুল পড়া, চুলের রং নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি করে এসব রাসায়নিক পন্য। তাই আপনি যদি সঠিকভাবে চুলের যত্ন নিতে চান তবে অবশ্যই ভালোমানের পণ্য ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় বাজারের রাসায়নিক পণ্যের উপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেয়া। তাহলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন আপনার চুলের সৌন্দর্য।

আশা করছি আজকের এই পোস্টটি আপনাদের উপকারে আসবে। প্রাকৃতিকভাবে চুলের যত্ন নেয়ার বিষয়ে আপনাদের যে কোন জিজ্ঞাসা কিংবা মতামত থাকলে অবশ্যই আমাদেরকে জানাবেন। আজকে এখানেই শেষ করছি। আবার কথা হবে অন্য কোন বিষয় নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আর অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ।

Hair is a symbol of beauty. And if it is a dense hair then it does not wait to say. Especially the thick and long hair is a factor of women’s beauty, which makes any woman apprehensive. So to make yourself attractive to everyone, take care of the hair regularly. The main tricks of hairstyle is in your hands. Take care of your hair by natural means and make yourself as your own hair consultant. In this post we will know some tips to take care of hair naturally.

Comments

comments

Share This Post

One Response to "প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে মেনে চলুন এই টিপস গুলো"

Post Comment