ঋতু ও ত্বক ভেদে ত্বকের যত্ন নেয়ার ঘরোয়া কিছু টিপস জেনে নিন

ঋতু ও ত্বক ভেদে ত্বকের যত্ন নেয়ার ঘরোয়া কিছু টিপস জেনে নিন

সুন্দর হতে চায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মনে হয় খুবই মুশকিল। তার চাইতেও বেশি মুশকিল সৌন্দর্যচর্চা করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া। একজন মানুষ তখনই সুন্দর হতে পারে যখন তার সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যমগুলো অর্থ্যাৎ ত্বক, চুল, নখ ইত্যাদি সুন্দর হবে। আর এগুলো সুন্দর করার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চর্চা। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই জানেনা কোন ক্ষেত্রে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিতে হয়। ফলে অনেকেই ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে বরং ত্বকের ক্ষতিই করে যাচ্ছে নিয়মিত। আজ আমরা ঋতুভেদে ও বিভিন্ন ত্বক অনুযায়ী ত্বকের যত্ন নেয়ার কিছু নিয়ম জেনে নিবো। সাথে থাকবে ত্বকের যত্নে ঘরে বসেই বিভিন্ন প্যাক তৈরীর টিপস।

ত্বকের যত্ন নেয়ার ঘরোয়া টিপস

আমাদের দেশের মেয়েদের সাধারণত তৈলাক্ত, শুষ্ক, স্বাভাবিক – এই তিন ধরনের ত্বক দেখা যায়। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে যে প্রসাধনী গরমে ব্যবহার করা হয়, সেটি বাদ দিতে হবে। ময়েশ্চারাইজারযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একদিন মুলতানি মাটির প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। মুখে একটি মাস্ক দিতে পারেন। লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন, পরে ময়েশ্চারাইজার দিন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল ভাবটা কমে যাবে।

পুরো শরীরের ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য প্রাকৃতিকভাবে কিছু ময়েশ্চারাইজার রয়েছে, তা লাগাতে পারেন। যেমন, জলাইয়ের তেল গোসলের আগে ম্যাসাজ করে তারপর গোসল সেরে নিন। তাহলে ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্ক ভাবটা কেটে যাবে। ত্বকও খুব পরিচ্ছন্ন ও সজীব দেখাবে। কারণ ত্বকের যতটুকু তেল দরকার, সেটা শুষে নেওয়ার পর বাকিটা পানিতে ধুয়ে যায়। গোসলে পর তেল লাগালে চটচটে ভাব থাকে এবং ত্বকে ধুলাবালি আটকায়, তাই গোসলের আগে তেল ব্যবহার করাই ভালো।

শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ফেসওয়াশ হিসেবে নিতে পারেন ক্রীমি ক্লিনজার বা Glycerin সোপ এবং ময়েশ্চারাইজার হিসেবে একটি ভারী ময়েশ্চারাইজার। বাড়িতে কলার সঙ্গে মধু মিশিয়ে বা পাকা পেঁপে মুখে লাগাতে পারেন। এতে ত্বকের শুষ্ক ভাবটা থাকবে না।

স্বাভাবিক ত্বকের ক্ষেত্রে ক্লিনজার বার ও তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। নিজেই একটা প্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। গোলাপজল, দই ও মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এতে ত্বক কোমল থাকবে।

যাদের মুখের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর, তারা খুব সমস্যায় ভোগেন। আপনারা ফেসিয়াল ওয়াইপস ব্যবহার করতে পারেন। হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আর অবশ্যই রাসায়নিক পদার্থমুক্ত সানস্ক্রিন। চাইলে ব্যবহার করতে পারেন একটি মাস্ক। কিভাবে বানাবেন? টক দইয়ের সঙ্গে গমের গুঁড়া মিশিয়ে মুখে ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

শীতে অনেকের ত্বকে সাবান ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয়। তারা গোসলের সময় সাবানও বাদ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে একটা সুতিকাপড় দিয়ে হালকা করে তেলটা মুছে নিতে পারেন। তারপর গোসল করুন। এতেও ভালো কাজ হয়। আবার অনেক রকম ময়েশ্চারাইজিং বাথ পাওয়া যায়, সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। সেটা সাবান ও ময়েশ্চারাইজার দুটোরই কাজ দেবে।

শীতের রোদ কার না পছন্দ? কিন্তু তা ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই এ সময় অবশ্যই নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন যেন অবশ্যই এসপিএফ ৩০ এর বেশি হয়।

যাদের স্বাভাবিক ত্বক, তারা যেকোনো লোশন, সানস্ক্রিন অথবা কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। সমস্যা হয় শুষ্ক ও তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে। যাদের শুষ্ক ত্বক তারা গায়ে তেল লাগানোর পাশাপাশি মুখেও হালকা তেল লাগাতে পারেন। তাহলে গোসলের পর ত্বক শুষ্ক দেখাবে না।

মাথার তালুর ত্বক একসময় খুব শুষ্ক হয়ে যায় এবং খুশকি তৈরী হয়। সে ক্ষেত্রে ভারসাম্য রেখে শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকক চুল বিশেষজ্ঞ। যেমন- প্রতিদিন অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল পড়তে পারে, তাই একটানা অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার না করে মাঝেমধ্যে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার একঘন্টা আগে তেল গরম করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া টকদই আর হেনা একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগালেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

শীতের সম হাত-পা রুক্ষ হয়ে যায়। অবহেলা ও সঠিক যত্নের অভাবে অনেকেরই হাত-পা ফেট যায়। যদি শীতের শুরু থেকেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো হয়, সেক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম জেলিটা খুব কাজ করে ফাটার ক্ষেত্রে। এটা চটচটে বলে অনেকেই অপছন্দ করেন। তারা বাজারে হাত ও পায়ের আলাদা যে ক্রিম পাওয়া যায়, তা কিনে ব্যবহার করতে পারেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। তবে এসব ব্যবহার করেও যদি কোন ফলাফল না পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আমাদের প্রত্যেকেরই ত্বকের গঠন ও বৈশিষ্ট্যে অনেক ভিন্নতা রয়েছে। তাই ত্বকের যত্ন নেয়ার ব্যাপারেও আমাদের সবাইকে একই নিয়ম মেনে চললে হবে না। যার ত্বক যে রকম তাকে তার উপর ভিত্তি করেই ত্বকের যত্ন নিতে হবে। আজকের এই পোস্টে এই ব্যাপারটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আজকের পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। ত্বকের যত্ন নেয়ার ব্যাপারে আপনাদের নিজেদের কোন টিপস, মতামত কিংবা প্রশ্ন থাকলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Comments

comments

Share This Post

Post Comment