নারিকেল তেল এর অসাধারণ কিছু গুণাগুণ ও ব্যবহার জেনে নিন

নারিকেল তেল এর অসাধারণ কিছু গুণাগুণ ও ব্যবহার জেনে নিন

পৃথিবীতে যত ধরনের খাবার আছে তাদেরকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করলে নারিকেল নিঃসন্দেহে সুপার ফুড এর তালিকায় থাকবে। সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর এই খাবারটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। নানা রকম পুষ্টি গুণাগুণের জন্য নারিকেলের যথেষ্ট কদর রয়েছে। এর রয়েছে নানারকম ব্যবহারও। নারিকেল এমন একটি ফল যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রাকৃতিক পানি পাওয়া যায়। শুধু প্রাকৃতিক পানি বললেও ভুল হবে, একে তো বলা যেতে পারে সুমিষ্ট, ঔষধি গুণ সম্পন্ন পানি। এর এতই গুণ যে ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশনে পর্যন্ত এই পানি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। নারিকেল এ পানির মতই আরেকটি মূল্যবান জিনিস পাওয়া যায়, যা হলো নারিকেলের তেল। নারিকেল তেল চিনেনা এরকম লোক খুব কমই আছে, কিন্তু এই তেলের স্বাস্থ্য গুণাগুণ কতটুকু তা হয়তো অনেকেরই অজানা। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো নারিকেল তেল এর অসাধারণ কিছু গুণাগুণ।

১. উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: নারিকেল হলো প্রাকৃতিক সম্পৃক্ত ফ্যাট এর বিশাল ভান্ডার। এই সম্পৃক্ত ফ্যাট আমাদের দেহে ভালো কোলেস্টেরল (HDL Cholesterol) এর পরিমাণ বাড়ায়। শুধু তাই নয়, এই ফ্যাট শরীরের জন্য খারাপ কোলেস্টেরল (LDL Cholesterol) কে ভালো কোলেস্টেরলে রুপান্তর করতে সাহায্য করে। আমাদের দেহে HDL Cholesterol বাড়লে তা হার্টকে সুস্থ রাখে এবং হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়।

২. ঘন কালো ও আকর্ষনীয় লম্বা চুল: আপনি কি গ্রীষ্মমন্ডলীয় উপকূলীয় এলাকার নারীদের দীর্ঘ ও উজ্জ্বল চুলের কারণ জানেন? হ্যাঁ, এটা নারকেল তেল এর জন্য। সারা বিশ্বে গ্রীষ্মমন্ডলীয় উপকূলীয় এলাকায় নারীরা প্রায় প্রতিদিনই চুলের জন্য নারকেল তেল ব্যবহার করে। এই পুরু মাখনের মতো তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং আপনার চুলকে চকচকে করে তোলে। নারিকেল তেল মাথার খুশকি কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি প্রোটিন ক্ষতি কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী, যা আপনার চুলের বিভিন্ন অবাঞ্ছিত বা অস্বাস্থ্যকর গুণাবলী হতে রক্ষা করে।

৩. ত্বকের যত্নে: নারকেল তেল একটি চমৎকার ম্যাসেজ তেল যা শুষ্ক ত্বকসহ সব ধরনের ত্বকের একটি কার্যকর ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। খনিজ তেলের পরিবর্তে, এই তেল প্রয়োগ করলে ত্বকের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে শুষ্কতা এবং ত্বক শুকানোর জন্য এটি হাজার হাজার বছর ধরে নিরাপদে ব্যবহার করা হয়েছে। হ্যাঁ, আপনি এটি সঠিকভাবে পড়েছেন – হাজার হাজার বছর! নারকেল তেল ব্যবহার সাম্প্রতিক একটি স্টাইল হিসাবে বলা যেতে পারে, কিন্তু এটি যুগ যুগ থেকে হয়েছে।

৪. ওজন কমাতে: নারকেল তেল ওজন হ্রাস করার জন্য খুবই উপকারী। নারিকেল তেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চেইনের ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা অত্যধিক ওজন ছাড়তে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে নারকেল তেল মহিলাদের পেটে স্থুলতা কমাতে সাহায্য করে। অন্যান্য ভোজ্য তেলের তুলনায় এটি সহজে পরিপাক হয় এবং থাইরয়েড এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিসমূহ সুস্থভাবে কার্যকরীকরণে সাহায্য করে। তাই, গ্রীষ্মমন্ডলীয় উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে এমন ব্যক্তিরা, যারা প্রতিদিন প্রধান তেল হিসেবে নারকেল তেল ব্যবহার করে, সাধারণত চর্বি, স্থুলতা বা ওজনযুক্ত নয়।

৫. রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলার জন্য নারিকেল তেল নি:সন্দেহে একটি ভালো খাবার। কারণ নারিকেল তেলে রয়েছে এন্টিমাইক্রোবিয়াল লিপিড, লরিক এসিড, ক্যাপ্রিক এসিড যাদের এন্টিফাঙ্গাল, এন্টিভাকাইটিরিয়া এবং অ্যান্টিভাইরাল প্রোপার্টি রয়েছে। মানুষের দেহ লরিক এসিডকে মোনোলারিনে রূপান্তরিত করে, যা গবেষণায় ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া মোকাবেলা করার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে সমর্থতিত হয়েছে।

৬. পরিপাক তন্ত্রে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে: নারিকেল তেল পরিপাক তন্ত্রে উন্নতি সাধনে সহায়তা করে। ফলে পাকস্থলী এবং পরিপাক সম্পর্কিত নানা ধরনের জটিল রোগ প্রতিরোধ হয়। নারিকেল তেলে থাকা সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড সমূহের এন্টি মাইক্রোবিয়াল প্রোপ্রার্টি রয়েছে। ফলে পরিপাকে সমস্যা করে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

প্রিয় পাঠকগণ, এতক্ষণে আশা করছি আপনার বুজে গেছেন যে নারিকেল তেল আমাদের শরীরের সুস্থতার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরেও নারিকেল তেলের আরো অনেক গুণাগুণ রয়েছে। পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন। নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আপনাদের যে কোন মতামত আমাদেরকে জানাতে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করবেন। আজ এতটুকুই থাক। সবাই ভালো থাকবেন।

Comments

comments

Share This Post

One Response to "নারিকেল তেল এর অসাধারণ কিছু গুণাগুণ ও ব্যবহার জেনে নিন"

Post Comment